,

কালো টাকা সাদা করতে গরু ব্যবসায়ী হলেন নাসির

বিশেষ প্রতিবেদক: সকারের দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের পরথেকেই বিদেশে অর্থ পাচারের গোপন পথ খুঁজছিলো দূর্নীতিবাজ ও অবৈধ ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ঢাকার অবৈধ ব্যবসায়ী ও দূর্নীতিবাজরা বিদেশে অর্থপাচারের জন্য হন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু সরকারের সকল সংস্থার কঠোর নজরদারীর কারনে কোনভাবেই বিদেশে টাকা পাচার করতে পারছিল না ধূর্তবাজরা। বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য গত বছরের শুরুতে গরু ব্যবসায় নেমেপড়ে কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি। থাইল্যান্ড থেকে গরু আমদানীর নামে শত শত কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে নরসিংদির নাসির উল্লাহ ছোটন প্রকাশ শেখ জাফর।
 
সরকারী সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গেছ, থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে গরু আনার নামে গত একবছরে হুন্ডির মাধ্যমে শতকোটি টাকা পাচার করছে এই ব্যক্তি। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে গরু আমদানি নিষিদ্ধ হলেও সীমান্তের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গরু আমদানী ও টাকা পাচার করেছেন শেখ জাফর।
 
সরকারী সংস্থার অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারের গরুর ট্রলারের নামে থাইল্যান্ড থেকে গরু আনছে চক্রটি। এতে করে কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে অবৈধভাবে থাইল্যান্ডে পাচার হয়েছে। মূলত থাইল্যান্ডে টাকা পাচারের জন্যই এই গরু আমদানীর কৌশল নিয়েছে চক্রটি। এই চক্রের সাথে মূল হোতা হিসেবে আছে মোঃ নাসির উল্লাহ ছোটন প্রকাশ শেখ জাফর নামের নরসিংদির ঐ ব্যক্তি। নাসির উল্লাহ ছোটন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার আশপাশের কিছু কালোবাজারী ও দূর্নীতিবাজ ব্যক্তির টাকা থাইল্যান্ডে পাচার করার জন্য গত বছরের শুরু থেকে থাইল্যান্ডে হুন্ডি ব্যবসা শুরু করেছেন। তার সাথে টেকনাফের আবু সৈয়দ, ইসমাইল ও আলমগীর নামের ৩ জন গরু ব্যবসায়ী জড়িত বলে জানা গেছে। এই তিনজন ব্যক্তি সরকারের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ও হুন্ডি ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলাও রয়েছে।
 
টেকনাফের শাহাপরীর দ্বীপ করিডোরের গরু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত একবছর ধরে ঢাকার কিছু লোক সরাসরি ট্রলারে করে থাইল্যান্ড থেকে গরু বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। যেসব ব্যক্তি এইসব গরু আনছে তরা কখনোই করিডোরে আসেনা। স্থানিয় এজেন্ট আবু সৈয়দ, ইসমাইল ও আলমগীরের মাধ্যমে তারা এই গরু বাংলাদেশে বাজারে বিক্রি করছে। থাইল্যান্ড থেকে গরু কেনার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ঢাকার ছোটন নামের একজন ব্যক্তির মাধ্যমে পাচার করা হয়।
 
শাহাপরীর দ্বীপের দীর্ঘদিনের গরু ব্যবসায়ীরা বলেন, গত একবছরে থাইল্যান্ড থেকে বড় বড় গরু এনে কম দামে বিক্রি করছে। এতে করে তারা লোকসানের মুখে পড়ছে। তিনি থাইল্যান্ডের গরু আমদানী বন্ধের দাবি জানান।
 
ঢাকার হুন্ডি ব্যবসায়ী শেখ জাফরের সহযোগী শাহাপরীর দ্বীপের ইসমাইল জানিয়েছেন, ঢাকার এক ব্যক্তির নামে এই গরু গুলো আসে। এইসব গরুর লেনদেন কিভাবে হয় তিনি জানেননা। আবু সৈয়দের মাধ্যমে এই গরু আসে বলে তিনি জানান। এসব তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
 
এই বিষয়ে গরু ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ থাইল্যান্ড থেকে গরু আনার কথা অস্বীকার করেন। ঢাকার বা নরসিংদির নাসির বা শেখ জাফর নামের কোন ব্যক্তিকে তিনি চিনেন না , কোনদিন তার সাথে কথা বা দেখাও হয়নি।
 
এই বিষয়ে অভিযুক্ত নাসির উল্লাহ ছোটন প্রকাশ শেখ জাফর বলেন, তিনি বৈধভাবে গরুর ব্যবসা করেন। তিনি থাইল্যান্ড থেকে কোন গরু নিয়ে আসেন না। তিনি বিভিন্ন বাজার থেকে গরু কিনে লালন পালন করেন। তিনি হুন্ডি ব্যবসাতে জড়িত নন বলেও দাবি করেন। একটি মহল তাকে বিতর্কিত করতেই এইসব অপপ্রচার করছে বলে তার দাবি ।
 
টেকনাফ ২ বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর রুবায়েছ জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডের গরু বা গরুর ট্রলার টেকনাফে আসার কোন অনুমতি নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের গরু নামে ঢাকার কয়েকজন ব্যক্তি থাইল্যান্ড থেকে কিছু গরু আনছেন বলে শুনছি। এইসব গরু না আনার জন্য করিডোরের ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
টেকনাফ শাহাপরীর দ্বীপের করিডোর গরু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির কাউন্সিলার জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডের গরু বা গরুর ট্রলার আনা সম্পুর্ন অবৈধ। এই বিষয়ে সম্প্রতি বিজিবি কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এইবার কোন ব্যবসায়ী এইসব গরু আনলে তাকে কালো তালিকাভূক্ত করা হবে এবং এই করিডোরে আর ব্যবসা করতে দেয়া হবেনা।


     More News Of This Category