,

কুষ্টিয়ায় চাপাকষ্টে চাকরিচ্যুত সেই ৯শিক্ষক ও কর্মচারী

নদীয়া ডেস্ক:  করোনাকালীন এই দুঃসময়ে দীর্ঘদিন বেতন ও চাকরি বন্ধ থাকার কারণে বাড়তি কোনো আয় উপার্জন না থাকা ও সম্মানজনক পেশা থেকে চাকরিচ্যুত করায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৪৭ বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯জন শিক্ষক ও দুই কর্মচারী। চাকরিচ্যুত করায় বুকভরা চাপাকষ্ট নিয়ে দিন কাটছে তাদের। কোনো কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করায় বিষয়টি যেন কাউকে কিছু বলতে পারছেন না। তবে ভিতর ভিতর চাকরি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন ও আশা বাদি তারা।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এতে হতবাক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্তে চাকরি থেকে শিক্ষকদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ও কর্মচারী তারা সকলেই খন্ডকালীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা এ প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করছে। হঠাৎ করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন।

সামাজিকভাবেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তারা। অব্যাহতি দেওয়া ওই বিবৃতিতে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে করোনা দুর্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের।

তবে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে লক্ষ লক্ষ টাকা থাকলেও কয়েকজন শিক্ষক করোনার অজুহাতে ষড়যন্ত্র করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ভুল বুঝিয়ে এ অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। আসলে তাদের ইচ্ছে মতো কাজ করার জন্য এ কাজটি করা হয়েছে। অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে শাখা কমানো হয়েছে যাতে আমাদের বাদ দেওয়া যায় এই জন্যই।

এ ব্যাপারে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, স্থানীয় পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ও নিজের যোগ্যতা প্রমান করে এখানে চাকরি পেয়েছি। এ প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অস্বচ্ছলতা নেই। সীমান্ত ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের ফিক্স ডিপোজিটে লক্ষ লক্ষ টাকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। আমাদের মোবাইল ফোনে ডেকে হাতে অব্যাহতি পত্র দিয়েছে। গেট থেকে আমাদের স্কুল ঢোকার অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

গেট থেকেই হাতে অব্যাহতি পত্র দেওয়া হয়েছে। কথা বলার সুযোগ তো দূরের কথা। এ প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছি। কখনও ভাবতেই পারিনি হঠাৎ করেই আমাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠান এত সুনাম অর্জন করেছেন তা আমাদের জন্য। নিজের মেধা ও শ্রম সবটুকুই দিয়েছি এ প্রতিষ্ঠানের জন্য। কাজ করেছি নিজের প্রতিষ্ঠান ভেবে।

কয়েকজন শিক্ষক আমাদের সঙ্গে শক্রতা করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ভুল বুঝিয়ে এ অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। আমরা আবারও এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি ফিরে পেতে চাই।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরহাদ হারুন চৌধুরী বলেন,তারা কিভাবে এ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন এটা আমার জানা নেই। তাদের নিয়োগ পত্র দেখেই জানানো হবে।


     More News Of This Category